শিশুর দেশপ্রেম ও ভাষার হাতেখড়ি: ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে সন্তানের সাথে কীভাবে কথা বলবেন?

২১শে ফেব্রুয়ারি বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রত্যেক বাঙালীর জন্য এক গভীর আবেগের দিন। তবে ৩ বা ৪ বছর বয়সী একজন শিশুর জন্য ‘অধিকার’, ‘আন্দোলন’, বা ‘শহীদ’, এই শব্দগুলো বোঝা বেশ কঠিন। কিন্তু দেশপ্রেম এবং ভাষার প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।
একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে আপনি কীভাবে আপনার সোনামণিকে এই বিশেষ দিনটির গুরুত্ব বোঝাবেন এবং তাদের মনে শেকড়ের টান তৈরি করবেন? চলুন জেনে নিই কিছু কার্যকর উপায়।
১. রূপকথার মত করে ভাষা শহীদদের বীরত্বের গল্প বলা
শিশুরা গল্প শুনতে খুব পছন্দ করে। তাদের কাছে ইতিহাসকে লড়াইয়ের বদলে ভালোবাসার গল্প হিসেবে উপস্থাপন করুন। কেন এভাবে বলবেন? কারণ এই বয়সে শিশুরা বিমূর্ত ধারণা (যেমন রাষ্ট্রভাষা) বুঝতে পারে না, কিন্তু তারা ‘ভালোবাসা’ এবং ‘সাহস’ বিষয়টি খুব ভালো অনুধাবন করতে পারে।
তাই আপনি এভাবে বলতে পারেন:
“সোনামণি, জানো? আমাদের যেমন একটা মিষ্টি মা আছে, তেমনি আমাদের একটা প্রিয় ভাষাও আছে। এই যে আমরা ‘মা’ বলে ডাকি, ‘ভাত’ খেতে চাই, এই সুন্দর কথাগুলো বলার জন্য অনেক দিন আগে লড়াই করতে হয়েছিল। কয়েকজন মানুষ ছিলেন, যাদের ছিল অনেক সাহস। তাঁদের সাহসের জন্যই আজকে আমরা এত সুন্দর করে বাংলায় কথা বলতে পারছি।”
২. সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে বর্ণমালা চেনা
শুধু মুখে না বলে শিশুকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন। হাত দিয়ে কোন কিছু তৈরি করলে বা রং করলে সেই বিষয়টি শিশুর স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। সাদা কাগজে শিশুকে বড় করে একটি ‘অ’ বা ‘ক’ কিংবা যেকোন বর্ণ ব্লক করে এঁকে দিন এবং তাকে রঙিন পেন্সিল দিয়ে সেটি ভরাট করতে বলুন। বর্ণমালার সাথে তার এই যে ‘রঙিন’ পরিচয়, এটি তাকে সামনে নিজের ভাষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
এক্ষেত্রে শিশুর সৃজনশীলতা বাড়াতে GOJO Kids-এর কালার পেন্সিল, আর্ট সেট বা ড্রয়িং বুকগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
৩. শহীদ মিনার ও কৃতজ্ঞতাবোধ
শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার আগেই মিনারের কোন ছবি বা প্রতিকৃতি দেখিয়ে সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন কেন আমরা সেখানে ফুল দিই। শিশুদের কাছে ‘শ্রদ্ধা’ বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের বোঝান যে, আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য সেখানে যাই।
আপনি এভাবে বলতে পারেন:
“শহীদ মিনারে যে সব ভাইয়েরা ঘুমিয়ে আছেন, তাঁদের অনেক সাহস ছিল। তাঁদের কারণে আমরা এই সুন্দর ভাষায় কথা বলতে পারি। আমরা যখন কাউকে খুব ভালোবাসি বা ধন্যবাদ দিতে চাই, তখন তাদের ফুল দিই না? তাই আমরা তাঁদেরকে অনেক ধন্যবাদ জানাতে এই সুন্দর ফুলগুলো দিতে যাচ্ছি।”
৪. খেলার ছলে ভাষার হাতেখড়ি
শিশুরা খেলার মাধ্যমে সবচেয়ে দ্রুত শেখে। ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে ভাষার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করতে বর্ণমালার ব্লক, পাজল বা ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কাঠের ব্লক দিয়ে সন্তানের সাথে মিলে ছোট একটি শহীদ মিনার তৈরির চেষ্টা করুন। এটি তার সৃজনশীলতা বাড়াবে এবং দিনটির প্রতি এক ধরনের ব্যক্তিগত মমত্ববোধ তৈরি করবে।
খেলার ছলে বর্ণমালা শেখার জন্য GOJO Kids-এর বর্ণমালার ফ্ল্যাশকার্ড বা উডেন পাজলগুলো দারুণ সহায়ক হতে পারে।
৫. গানের সুর ও সঠিক আচরণ শেখানো
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি শিশুর মনে এক বিশেষ প্রভাব ফেলে। গানটি বাজার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা নীরবতা পালন করার মাধ্যমে আপনার সন্তানকে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে শেখান। গানের শব্দগুলো কঠিন হলেও সুরের গাম্ভীর্য তাকে দিনটির গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে।
সন্তানকে এভাবে বুঝিয়ে বলুন:
“এই গানটি যখন বাজবে, আমরা সবাই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শহীদ ভাইদের সম্মান জানাব। আমরা মনে মনে বলব: তোমাদের আমরা অনেক ভালোবাসি।”
৬. ভাষাগত মমত্ববোধ তৈরি
দেশপ্রেম বা ভাষার প্রতি টান একদিনে গড়ে ওঠে না। দৈনন্দিন জীবনে শিশুকে বাংলা গল্পের বই পড়ে শোনান। গল্পের বই পড়ার সময় শব্দের ওপর আঙ্গুল দিয়ে তাকে বর্ণগুলো চিনতে সাহায্য করুন। মনে রাখবেন, শিশু আপনাকে দেখেই শেখে। আপনি যখন গর্বের সাথে বাংলা বলবেন, সে-ও সেটাই লালন করবে।
শিশুর জন্য মানসম্মত গল্পের বই বা ছড়ার বই সংগ্রহ করতে GOJO Kids-এর কালেকশন দেখতে পারেন।
শেষ কথা:
২১শে ফেব্রুয়ারি চেনানোর জন্য এই ছোট্ট ছোট্ট কথা ও কাজগুলোই ভবিষ্যতে শিশুকে একজন সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এবার একুশে ফেব্রুয়ারি হোক আপনার সন্তানের জন্য শেকড় চেনার নতুন এক পাঠশালা।




Baby Essentials
