Smart Parenting

বসন্তে শিশুর সুস্থতা: প্রয়োজনীয় টিপস

1000066306 scaled

শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমন। প্রকৃতির এই পালাবদল আমাদের মনকে উৎফুল্ল করলেও, ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ফাল্গুনের শুরুতে দিনের বেলা হালকা গরম অনুভূত হলেও, শেষ রাতে বা ভোরের দিকে থাকে হিমেল হাওয়া। তাপমাত্রার এই হঠাৎ ওঠানামা শিশুদের শরীরে মানিয়ে নিতে সময় লাগে, যার ফলে সর্দি, কাশি বা ভাইরাল ফিভারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

​একজন সচেতন বাবা-মা হিসেবে এই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আপনার সোনামণির বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নিই, এই ফাল্গুনে শিশুকে সুস্থ রাখতে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

​১. সঠিক পোশাক নির্বাচন (লেয়ারিং মেথড)

​এই সময়ে আবহাওয়া খুব বিভ্রান্তিকর থাকে। দুপুরে গরম লাগলেও সন্ধ্যায় বা সকালে ঠান্ডা থাকে। তাই শিশুকে খুব ভারী সোয়েটার পরানোর দরকার নেই, আবার একদম পাতলা পোশাকেও রাখা ঠিক হবে না। সবচেয়ে ভালো হয় ‘লেয়ারিং’ বা স্তরে স্তরে কাপড় পরানো।

  • ​ভেতরে একটি সুতি বা আরামদায়ক গেঞ্জি পরান।
  • ​তার ওপর হালকা ফুলহাতা জামা বা পাতলা জ্যাকেট দিন।
  • ​গরম লাগলে উপরের কাপড় খুলে ফেলা যাবে, আবার ঠান্ডা লাগলে পরিয়ে দেওয়া যাবে।

(টিপস: আমাদের কটনকাণ্ড (CottonKando)-এর আরামদায়ক ও ব্রিদেবল ফেব্রিকের কালেকশন এই সময়ের জন্য পারফেক্ট হতে পারে।)

​২. ধুলাবালি থেকে সুরক্ষা

​শীতের শেষে বাতাস বেশ শুষ্ক থাকে এবং বাতাসে ধুলিকণা ও ফুলের রেণু (pollen) বেশি ওড়ে। এটি শিশুদের অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

  • ​বাইরে বের হলে শিশুকে মাস্ক পরানোর চেষ্টা করুন।
  • ​বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ ভালো করে ধুয়ে দিন।
  • ​ঘরের জানালা বা আসবাবপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

​৩. ত্বকের যত্ন ও হাইড্রেশন

​বসন্তের শুরুতে বাতাস শুষ্ক থাকায় শিশুদের ত্বক ফাটতে পারে বা রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

  • ​গোসলের পর ভালো মানের বেবি লোশন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
  • ​শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ান। পানি শূন্যতা রোধে ফলের রস বা ডাবের পানি দারুণ কার্যকর।

​৪. খাবারের প্রতি বিশেষ নজর

​ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার (যেমন কমলা, মাল্টা, পেয়ারা) বেশি করে খাওয়ান। বাইরের ভাজা-পোড়া বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এই সময়ে পেটের পীড়া বা ডায়রিয়ার প্রকোপও দেখা দিতে পারে।

​৫. জ্বর বা সর্দিতে করণীয়

​হালকা সর্দি বা কাশি হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। শিশুকে বিশ্রাম দিন এবং কুসুম গরম পানি ও মধু (এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য) খাওয়াতে পারেন। তবে জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শেষ কথা:

বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের স্পন্দন। একটু সতর্ক থাকলে এই ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতেও আপনার শিশু থাকবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। ফাল্গুনের রঙে রঙিন হোক আপনার শিশুর প্রতিটি দিন!

Leave a Reply